হাম ও রুবেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই

হাম ও রুবেলা উভয়ই অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। যদিও এদের উপসর্গ কিছুটা একরকম, তবে এগুলো ভিন্ন ভিন্ন ভাইরাসের কারণে হয় এবং এদের ঝুঁকির মাত্রাও আলাদা। 

বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই এই সময়ে সতর্ক থাকা জরুরি। 

হাম (Measles)

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক বায়ুবাহিত রোগ যা ‘রুবেওলা’ ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এটি হাঁচি, কাশি বা বাতাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। 

  • লক্ষণ সমূহ:
    • তীব্র জ্বর এবং সেই সঙ্গে কাশি, সর্দি ও চোখ লাল হওয়া।
    • মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ (কপলিক স্পট) দেখা দেওয়া।
    • জ্বর আসার ৩-৪ দিন পর মুখে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ দেখা দেয়, যা পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
  • জটিলতা: হাম থেকে নিউমোনিয়া, কান পাকা, ডায়রিয়া এমনকি অন্ধত্ব বা মৃত্যুও হতে পারে। 

রুবেলা (Rubella)

রুবেলাকে প্রায়ই ‘তিন দিনের হাম’ বা ‘জার্মান হাম’ বলা হয়। এটি রুবেলা ভাইরাসের কারণে হয় এবং হামের তুলনায় এর তীব্রতা সাধারণত কম থাকে। 

  • লক্ষণ সমূহ:
    • হালকা জ্বর ও মাথাব্যথা।
    • গোলাপী বা লালচে র‍্যাশ যা মুখ থেকে শুরু হয়ে দ্রুত সারা শরীরে ছড়ায় এবং সাধারণত ৩ দিনের মধ্যে চলে যায়।
    • কানের পেছনে বা ঘাড়ের লসিকা গ্রন্থি (lymph nodes) ফুলে যাওয়া।
  • গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি: গর্ভবতী মহিলারা আক্রান্ত হলে গর্ভস্থ শিশুর গুরুতর জন্মগত ত্রুটি (Congenital Rubella Syndrome) হতে পারে। 

হাম রুবেলার মধ্যে মূল পার্থক্য 

বৈশিষ্ট্য হাম (Measles)রুবেলা (Rubella)
তীব্রতাবেশি (উচ্চ জ্বর ও জটিলতার ঝুঁকি)তুলনামূলক কম (হালকা জ্বর)
র‍্যাশের স্থায়িত্ব৫ থেকে ৭ দিনসাধারণত ৩ দিন
বিশেষ লক্ষণকপলিক স্পট (মুখের ভেতর সাদা দাগ)ঘাড়ের গ্রন্থি ফুলে যাওয়া

প্রতিরোধ করণীয়

হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো টিকা। 

  • টিকা দেওয়া: সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ এমআর (MR) টিকা দেওয়া হয়।
  • আলাদা রাখা: আক্রান্ত ব্যক্তিকে অন্যদের (বিশেষ করে শিশু ও গর্ভবতী নারী) থেকে আলাদা রাখুন।
  • পুষ্টিকর খাবার: রোগীকে পর্যাপ্ত তরল খাবার, ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার এবং নিয়মিত গোসল করানো উচিত।
  • ডাক্তারের পরামর্শ: বিপদচিহ্ন যেমন—তীব্র শ্বাসকষ্ট, জ্ঞান হারানো বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top