
ফ্যামিলি কার্ড হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি ডিজিটাল সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার মাধ্যমে হতদরিদ্র ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে প্রায় ২,৫০০ টাকা বা সমমূল্যের সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ মার্চ থেকে এই কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের মূলউদ্দেশ্য ও সুবিধাসমূহ:
- সরাসরি সহায়তা: পরিবারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
- নারী ক্ষমতায়ন: কার্ডধারীর তথ্য যাচাইয়ে QR Code প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সহায়তা সরাসরি পরিবারের নারী প্রধানের কাছে হস্তান্তর।
- স্বচ্ছতা: ডেটাবেজ-ভিত্তিক ডিজিটাল সিস্টেম হওয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়ম কমানো।
- অন্তর্ভুক্তি: এটি প্রচলিত বয়স্ক বা বিধবা ভাতার বাইরে একটি অতিরিক্ত সামাজিক নিরাপত্তা সুরক্ষা।
কার্যক্রম ও আবেদন প্রক্রিয়া:
- বাস্তবায়ন: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সমাজসেবা অধিদপ্তর।
- পাইলটিং: পরীক্ষামূলকভাবে ১৪টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
- সুবিধাভোগী নির্বাচন: যাচাই-বাছাইয়ের পর হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
প্রধানত দেশের নিম্নোক্ত শ্রেণি এই কার্ডের জন্য বিবেচিত হতে পারে:
- দরিদ্র ও অতি দরিদ্র পরিবার।
- বেকার পরিবার।
- নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার যারা আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
- দ্রষ্টব্য: এই কার্ড বিদ্যমান অন্যান্য সুবিধা (যেমন- বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা) বন্ধ করবে না, বরং সেগুলোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।
আবেদনের প্রক্রিয়া ও বর্তমান অবস্থা
- আবেদন: সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মাধ্যমে বা নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে নিবন্ধিত হতে হয়।
- উদ্বোধন: এটি মার্চ ২০২৬-এ পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রকল্প হিসেবে) শুরু হয়েছে। বগুড়া ও ঢাকার কিছু এলাকায় ইতিমধ্যে এর বিতরণ শুরু হয়েছে।
এই কর্মসূচিটি মূলত পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য-শিক্ষার উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে চালু করা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য সরকারি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট familycard.gov.bd ভিজিট করতে পারেন।
মূলত, “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক” এই ধারণার ওপর ভিত্তি করে পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড কাজ করছে।


কার্ড গুলো যেন সঠিক মানুষরা পায়।